Wednesday, May 6, 2026
Homeখেলাএল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল শিবিরে অস্থিরতা

এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল শিবিরে অস্থিরতা

মাঠের বাইরে অস্থিরতা যেন ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বিদায়ের পর থেকেই ড্রেসিংরুমের পরিবেশে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যা এখন এল ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলছে। এমন সংবাদই প্রকাশ করেছে দ্য অ্যাথলেটিক।

সংবাদ অনুযায়ী, এই উত্তেজনার শুরু এপ্রিলেই, যখন জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার ট্রেনিং গ্রাউন্ডের ড্রেসিংরুমে এক সতীর্থের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একাধিক সূত্রের মতে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার পেছনে রুডিগারের ভূমিকাই ছিল প্রধান। পরে অবশ্য নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান তিনি এবং দলকে একসঙ্গে রাখতে সতীর্থদের পরিবারসহ লাঞ্চে আমন্ত্রণ জানান।

তবে পরিস্থিতি সেখানেই থেমে থাকেনি। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেও জড়িয়ে পড়েন আরেক বিতর্কে। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে এক কোচের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কোচের প্রতি অপমানজনক ভাষাও ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। যদিও এই দুই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো শাস্তির খবর নেই, তবুও দলীয় পরিবেশে এর প্রভাব পড়েছে স্পষ্টভাবেই।

এমবাপের আচরণ ক্লাবের ভেতরেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শুধু অনুশীলনের ঘটনাই নয়, ইনজুরি থেকে ফেরার সময় ইতালিতে ব্যক্তিগত সফরেও অসন্তুষ্ট হয়েছেন অনেকেই। কিলিয়ান এমবাপে বেতিস ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার পর কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন। সেই সময়েই ইতালি সফরে যাওয়ায় সমর্থকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন তার দায়বদ্ধতা নিয়ে।

কোচ আলভারো আরবেলোয়া অবশ্য বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত সময়ে খেলোয়াড়রা যা ইচ্ছা করতে পারে, আমি সেখানে হস্তক্ষেপ করি না। ইনজুরির বিষয়গুলো ক্লাবের মেডিক্যাল স্টাফই দেখভাল করে।’ তবে ক্লাবের ভেতরের একটি সূত্র জানায়, পুরো পরিস্থিতি সামলানোর ধরন নিয়ে সন্তুষ্ট নন আরবেলোয়া নিজেও।

সবকিছুর মাঝেই নজর এখন আসন্ন এল ক্লাসিকোর দিকে, যেখানে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে নামবে রিয়াল। এমবাপের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করা এই ফরোয়ার্ড সময়মতো ফিট হতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ড্রেসিংরুমের সামগ্রিক পরিবেশও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। একাধিক সূত্র বলছে, দলের ভেতরে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট, অনেক খেলোয়াড়ই অসন্তুষ্ট। কোচিং পজিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা, কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অস্থির।

তবুও মাঠে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। সর্বশেষ এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে হ্যারি কেইন ছাড়া আর কেউ ছাড়াতে পারেননি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments