নারায়ণগঞ্জে র্যাবের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের মাসদাইরে বোয়ালিয়া খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় র্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। সেসময় স্থানীয় মাদক চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আহত হন র্যাব-১১ এর কর্পোরাল নাজিবুল, কনস্টেবল মাহি ও ইব্রাহিম। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত নাজিবুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা আশপাশের এলাকাতে অভিযান চালান।
র্যাব ১১–এর উপপরিচালক মো. আব্দুর রশিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, র্যাবের গোয়েন্দা টিমের ৪ সদস্য ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন। সেসময় চারজনই সিভিল পোশাকে ছিলেন।
এদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় রূপগঞ্জ থানার ওসিসহ পুলিশের ৭ সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ ভোরে ৫টার দিকে উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অস্ত্র মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমি ছাড়া ৬ সদস্য আহত হয়েছেন।
ওসি সালাউদ্দিন বলেন, হামলার পর পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে শামীমের স্ত্রীসহ ১২ জনকে আটক করে। পুলিশ বাদী হয়ে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করেছে।
অভিযুক্ত শামীম মিয়া রূপগঞ্জ থানা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে সন্ত্রাস ও মাদক চোরাকারবারি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শামীম মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানায় কেন্দ্রীয় যুবদল।
নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, শামীমকে তার ঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা শামীমের সহযোগীদের খবর দিলে তারা পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে শামীম পালিয়ে যান। তবে তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

