Wednesday, July 22, 2026
Homeবিক্রি কম, সংকটে প্লাস্টিক খাত

বিক্রি কম, সংকটে প্লাস্টিক খাত

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে দেশে চাহিদা গেছে কমে। এই দ্বিমুখী চাপে আর্থিক সংকটে পড়েছে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঢাকার পল্টনে গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে সংকটের চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট শুরুর আগে প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানি হতো টনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে। এখন সেই দাম বেড়ে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

শামীম আহমেদ বলেন, কাঁচামালের চড়া দাম পুরো শিল্পকে চাপে রেখেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরকে প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে।

বিপিজিএমইএর তথ্যমতে, দেশে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের বার্ষিক বাজার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে প্রতিমাসে এই খাতে বিক্রি হতো প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে।

শামীম আহমেদ জানান, গ্রাহকরা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু কিছু প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্যাকেজিং খাত। শামীম বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ এখন গৃহস্থালির টুকটাক জিনিস বা দ্রুত বিক্রি হওয়া ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) কম কিনছে। এর ধাক্কা লাগছে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বা প্যাকেজিং চূড়ান্ত পণ্য নয়। এটা অন্য শিল্পে সরবরাহ করা হয়। ভোক্তারা যখন ডিটারজেন্ট, খাবার বা গৃহস্থালির পণ্য কেনা কমিয়ে দেন, তখন প্যাকেজিং ও প্লাস্টিকের চাহিদাও কমে যায়।

তিনি জানান, অনেকেই মনে করেন প্লাস্টিক মানে শুধু বালতি, মগ আর রান্নাঘরের সরঞ্জাম। এই ধারণা সঠিক নয়। পোশাক, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং পানীয় শিল্পসহ সব জায়গাতেই প্লাস্টিক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার প্লাস্টিক কারখানার আছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার কারখানাই অন্যান্য খাতে তাদের পণ্য সরবরাহ করে।

তাই প্লাস্টিক খাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত বা নেতিবাচক প্রভাব পড়লে, খুব দ্রুত পুরো অর্থনীতিতে এর ধাক্কা লাগবে বলে মনে করেন শামীম আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় বিপিজিএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য অনেক সময়ই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ (শুল্ক বিভাগ) চালানের ইনভয়েসের চেয়ে বেশি দাম ধরে শুল্কায়ন করছে। প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে আনা হয়, তাই এখানে ‘আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিং’ করার সুযোগ নেই বললেই চলে। তবু ব্যবসায়ীদের অযথাই হয়রানি হতে হচ্ছে।

বিপিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, উৎপাদন খরচ অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়লেও এর সবটা ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে না। উতপাদকরা কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও টিকে থাকার লড়াই করছেন। তিনি বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা চললেও এখনো দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে মুনাফা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ, বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments