Friday, July 24, 2026
Homeঅপরাধটানা বৃষ্টিতে পাবনার অতল্লাপুরে পানি নিষ্কাশন খালে ভাঙন, ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা

টানা বৃষ্টিতে পাবনার অতল্লাপুরে পানি নিষ্কাশন খালে ভাঙন, ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা

টানা বৃষ্টিতে পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের অতল্লাপুর গ্রামে বিলের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের খালে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে খালের পূর্ব পাড়ে একটি রাস্তার একাংশ, বেশ কয়েকটি বাড়িঘরের কিছু অংশ এবং ৫০টিরও বেশি গাছ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরও ১০-১৫টি বাড়িঘর ও স্থাপনা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম আজ বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সদর উপজেলায় চার-পাঁচটি বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই খাল। গত কয়েকদিনের টানা ও ভারী বৃষ্টিতে বিলগুলোতে পানির চাপ বাড়ায় খালেও স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। এ কারণেই আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, অতল্লাপুর গ্রামে কোনো বড় বা প্রমত্তা নদী নেই। তবে গ্রামের চারপাশে বেশ কয়েকটি বিল রয়েছে। এর মধ্যে মুনিদাহ বিল, শ্যামপুর বিল, অতল্লাপুর বিল, মাহমুদপুর বিল ও হাসেমপুর এলাকার অতিরিক্ত পানি এই একটি খালের মাধ্যমে স্থানীয় রত্নাই নদীতে গিয়ে পড়ে।

তারা জানান, প্রতি বর্ষায় এই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হলেও পাড়ের ঘরবাড়ি বা স্থাপনা কখনো ভাঙনের মুখে পড়েনি। এবারই টানা বৃষ্টিতে পানির চাপ বাড়ায় খালের দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা তোতা মিয়া (৬০) বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি এই খাল এতো বড় ক্ষতি করতে পারবে। মাত্র একদিনের মধ্যে আমার বাড়ির একাংশ ভেঙে নিয়ে গেছে এই খাল। এতো বছরের জীবনে এই খালে এমন স্রোত আগে কখনো দেখিনি।’

আরেক বাসিন্দা মো. চান মিয়া (৫৫) বলেন, ‘অতিরিক্ত পানির চাপে ৬ ফুটের সরু খাল এখন ১২ থেকে ১৫ ফুট চওড়া হয়ে গেছে এবং দুই পাড়ে বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশের গাছপালা ইতোমধ্যে খালে চলে গেছে। ঘরের একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমার পরিবার দিনরাত ভাঙন আতঙ্কে ভুগছে।’

ভাঙনের কারণে অনেকেই খালের পাড় থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, গত চার-পাঁচ দিন ধরে এই ভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পাউবো সম্প্রতি রত্নাই নদী ও তার আশেপাশের বিভিন্ন খাল খনন করলেও এই অংশটি খনন করেনি। এ কারণে গ্রামবাসীকে খেসারত দিতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে পাউবো কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments