Friday, October 23, 2026
Homeটাং-রবিনসনের ৫ উইকেট, বিধ্বস্ত পাকিস্তান ও একদিনে যত কীর্তি

টাং-রবিনসনের ৫ উইকেট, বিধ্বস্ত পাকিস্তান ও একদিনে যত কীর্তি

জশ টাং ও অলি রবিনসনের ডানহাতি পেসের বিপরীতে কোনো পথ খুঁজে পেল না পাকিস্তান। এক পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও তাদের তোপে দুইশর বেশ নিচে গুটিয়ে গেল সফরকারীরা। জবাব দিতে নেমে ইংল্যান্ড পেয়েছে ভালো শুরু।

বুধবার হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে ৫৯ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা। তাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১২ রান। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান অলআউট হয় ১৭১ রানে।

৫ উইকেট নিতে টাংয়ের খরচা ৪৬ রান। রবিনসন সমান সংখ্যক শিকার ধরতে দেন ৫১ রান। টেস্ট ক‍্যারিয়ারে টাং চতুর্থবারের মতো ৫ উইকেট নেন, রবিনসন পঞ্চমবারের মতো।

টেস্ট ইতিহাসে ১৬তম বারের মতো কোনো ইনিংসে ৫ উইকেট করে পেলেন ইংল্যান্ডের দুই বোলার। এমন নজির শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। ম্যানচেস্টারে পাকিস্তানের বিপক্ষেই স্পিনার মন্টি পানেসার ও পেসার স্টিভ হার্মিসন নিয়েছিলেন পাঁচটি করে উইকেট।

শুধু ইংলিশ পেসারদের বিবেচনায় নিলে যেতে হবে আরও পেছনে। ২৮ বছর আগে সবশেষ এই কীর্তি গড়েছিলেন অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার ও অ্যান্ডি ক্যাডিক। ত্রিনিদাদে ১৯৯৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সমান পাঁচটি করে উইকেট নিয়েছিলেন দুজন।

প্রথম দিনে কীর্তি হয়েছে আরও। ম্যাচের প্রথম বলেই আজান আওয়াইসকে সাজঘরে পাঠান রবিনসন। ফলে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার টেস্টের প্রথম বলে আউট হলেন কোনো পাকিস্তানি ব্যাটার। আগের একমাত্র ঘটনাটি ৪৩ বছরের পুরনো। ১৯৮৩ সালে জলন্ধরে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে কপিল দেবের করা প্রথম বলে বিদায় নিয়েছিলেন মহসিন খান।

ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্টের প্রথম বলে উইকেট পাওয়া চতুর্থ বোলার হলেন রবিনসন। এই বিরল তালিকায় থাকা বাকিরা হলেন মরিস টেট (১৯২৬ সাল, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া), জিওফ আর্নল্ড (১৯৭৪ সাল, প্রতিপক্ষ ভারত) ও রায়ান সাইডবটম (২০০৭ সাল, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

এই টেস্ট দিয়ে চোট কাটিয়ে ইংল্যান্ড দলে ফিরেছেন রবিনসন। শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিলেন গত জুনে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছিলেন ম্যাচসেরা।

ওবল সিম ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়া আজান রিভিউ নিয়েছিলেন। কাজ হয়নি। দুঃস্বপ্নের মতো শুরুর পর পাকিস্তানের ভোগান্তি আরও বাড়ে পঞ্চম ওভারে। শান মাসুদও এলবিডব্লিউ হন রবিনসনের বলে।

৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের ইনিংস মেরামতের কাজে লাগেন ইমাম উল হক ও আবদুল্লাহ শফিক। বৃষ্টির বাগড়ায় হওয়া বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে তারা যোগ করেন ৯১ রান। ৭৪ বলে ছয়টি চারে ৪২ রান করা ইমামকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে এই জুটি ভাঙেন টাং।

এরপর নামে ধস। পাকিস্তান শেষ ৭ উইকেট হারায় মাত্র ৭৪ রানে। নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজমের জায়গায় সুযোগ পাওয়া সৌদ শাকিল কাটা পড়েন এলবিডব্লিউতে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে রিভিউ নিলে বেঁচে যেতেন তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, রবিনসনের বল চলে যেত লেগ স্টাম্পের উপর দিয়ে।

শফিকের প্রতিরোধ শেষ হয় রবিনসনের চমৎকার এক ডেলিভারিতে। অনেক ভেতরে ঢুকে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। শফিক দলের পক্ষে ১০৪ বলে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন আটটি চারের সাহায্যে।

চা বিরতির আগে পরপর দুই বলে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সালমান আগা ও আলি উসমানকে বিদায় করেন টাং। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও তার শিকার হন। শেষমেশ ৪৮.১ ওভারে অলআউট হয় পাকিস্তান।

এরপর ৪৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় ইংল্যান্ড। বেন ডাকেট নবম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পরের ওভারে মোহাম্মদ আলী সাজঘরে ফেরান এমিলিও গেকে। ৩১ বলের মারমুখী ইনিংসে সাতটি চারে ৩৩ রান করে স্লিপে ধরা পড়েন গে।

দিনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেন জর্ডান কক্স ও ইংল্যান্ডের স্থায়ী টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করা জো রুট। তাদের অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটির রান ৬৪। কক্স ৩৮ বলে চারটি চারে ২৩ ও রুট ৫৩ বলে ছয়টি চারে ৩৭ রানে ক্রিজে আছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments