Wednesday, April 29, 2026
Homeসারাদেশফেসবুকে পরিচিত হয়ে তরুণীদের ডেকে এনে ধর্ষণ, যাত্রাবাড়ীতে যুবক গ্রেপ্তার

ফেসবুকে পরিচিত হয়ে তরুণীদের ডেকে এনে ধর্ষণ, যাত্রাবাড়ীতে যুবক গ্রেপ্তার

সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে তরুণীদের ডেকে এনে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী অন্তত ১০ তরুণীর খোঁজ পাওয়া গেছে। তারা সবাই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে অভিযুক্ত যুবক রাশেদুল ইসলাম রাব্বি পুলিশের কাছে এরকম ১৩টি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী আজ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের প্রথম ঘটনাটি এখনো বের করা যায়নি। তবে তার অপরাধের একটি প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়া গেছে। 

তিনি যে নারীকে ব্ল্যাকমেইল করেন, তার ফোন ছিনিয়ে নেন, তারপর ফোনে থাকা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার শুরু করেন। এরপর সেই নারীর ফেসবুকে থাকা অন্য নারী বন্ধুদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। নারী কণ্ঠে কথা বলে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন।

একপর্যায়ে ‘উপহার’ পৌঁছানো বা পোশাক ডেলিভারির কথা বলে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলতেন। ভুক্তভোগী তরুণী রওনা হলে রাব্বি জানাতেন, তিনি (ফেসবুকে পরিচয় দেওয়া নারী/আসল পরিচয় রাব্বি) অসুস্থ, তাই তার ‘চাচাতো বা ফুপাতো ভাই’ গিয়ে তাকে নিয়ে আসবেন।

এরপর রাব্বি নিজেই সেই ভাই সেজে সিএনজি বা রিকশায় করে তরুণীদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুল এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনে নিয়ে যেতেন।

সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করতেন রাব্বি। পরে সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেন। সেই ফোন নিয়ে আবার একই কায়দায় ভুক্তভোগী নারীর ফেসবুক বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

ভুক্তভোগী নারীদের সবার বয়সই ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং সবাই মিরপুরের। ১০টি অভিযোগই গত দুই মাসের মধ্যে এসেছে বলে জানান ডিসি মল্লিক আহসান। এর আগে অন্য কোনো অঞ্চলের নারীদের সঙ্গেও রাব্বি এমনটি করেছেন কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

রাব্বির কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাব্বির নিজের স্ত্রীও তার ব্ল্যাকমেইলের শিকার। রাব্বির শ্বশুর পুলিশের কাছে এই ব্ল্যাকমেইলের কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ডিসি মল্লিক।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে রাব্বিকে ধরা হলেও বাকি ভুক্তভোগীরা ধর্ষণ বা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ শুরুতে করেননি। মিরপুর মডেল থানায় হওয়া ফোন হারানোর জিডি থেকে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে খুঁজে বের করে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্র জানায়, গত ২০ মার্চ ও ৬ এপ্রিল একইভাবে দুই তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন রাব্বি। সবশেষ ৯ এপ্রিল আরেক তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে।

এসব ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। রিমান্ড আবেদনের মাধ্যমে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে আসছেন না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments