Wednesday, April 29, 2026
Homeখেলাঅহংকার ও রাগ বিসর্জন দিয়ে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে চান তামিম

অহংকার ও রাগ বিসর্জন দিয়ে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে চান তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল বোর্ডের আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা আবারও জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি অহংকার ও রাগ বিসর্জন দেওয়ার মানসিকতার কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর মোহাম্মদ ইসামের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক এই জাতীয় অধিনায়ক বলেন, ‘আমি আমার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে খুব স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে আমি পরবর্তী নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য লড়াই করব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্টেকহোল্ডাররা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পাওয়ার দাবিদার।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারা সম্প্রতি দেখেছেন কীভাবে বাংলাদেশে ক্রিকেট প্রায় থমকে গিয়েছিল। খেলোয়াড়রা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল, তাই আমরা চাই না সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হোক। নির্বাচনের পর সুযোগ পেলে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমার যে রূপকল্প রয়েছে, তা নিয়ে কাজ শুরু করব। আমাদের নির্বাচন করার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল, তবে তিন মাসের আগেই এটি সম্পন্ন হবে।’

দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক থেকে বিসিবি সভাপতি হওয়ার মধ্যকার বড় পরিবর্তনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যেখানে মনোযোগ মাঠের পারফরম্যান্স থেকে সরে গিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন, প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর নিবদ্ধ হয়।

ক্রিকেট জনপ্রিয় আরও প্রচারণার প্রয়োজন দেখেন তামিম, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দেশের এক নম্বর খেলা বলেই আমরা এর প্রচার বন্ধ করতে পারি না। আমার মনে হয় শহর, ছোট শহর বা গ্রামগুলোতে আমরা এই খেলার যথেষ্ট প্রচার করি না। আমরা দেখি বড় কোম্পানিগুলো তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার চালিয়ে যায়, কারণ তা না হলে মানুষ নাম ভুলে যাবে।’

বোর্ড সভাপতি হওয়া বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হওয়ার চেয়ে কতটা আলাদা—এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে আপনি শুধু ক্রিকেট এবং খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করেন। কিন্তু বোর্ড সভাপতি হিসেবে আপনাকে সামগ্রিক উন্নয়নের কথা ভাবতে হয়, শুধু খেলোয়াড়দের নয়, কোচিং স্টাফ এবং বোর্ডের কর্মচারীদের কথাও ভাবতে হয়। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই অবস্থান থেকে আপনি আবেগপ্রবণ হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। আপনাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করতে হবে।’

আইসিসি এবং অন্যান্য বোর্ডগুলোর সঙ্গে তিনি কীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করবেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আমি স্পষ্ট যোগাযোগে দৃঢ় বিশ্বাসী। অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার সময় আপনাকে আরও কৌশলী এবং যৌক্তিক হতে হবে।’

৩৭ পেরুনো তামিম বিসিবির সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি এবং বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম তরুণ বোর্ড সভাপতিদের একজন। তার মতে, উপমহাদেশে কেউ তরুণ হলে তাকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া মানুষের জন্য কিছুটা কঠিন হয়। এক্ষেত্রে সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করা তার দায়িত্ব, ‘আবারও বলছি, এখানে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখানে হুকুম দিতে বা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আসিনি। এটি আমার পছন্দ বা অপছন্দের বিষয় নয়। সভাপতির চেয়ারে বসে আমার অহংকার এবং রাগ বিসর্জন দিতে হবে। এটাই আমার মানসিকতা এবং এভাবেই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে চাই।’

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের বিষয়ে তামিম দৃঢ়ভাবে জানান , তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ‘প্রথমত, আমি আমাদের নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। গত কয়েক বছরে যা ঘটেছে [সাবেক এক নির্বাচকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ] এবং তারা যা সহ্য করেছে, তার প্রেক্ষিতে তাদের সামগ্রিক সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাই আমার এক নম্বর অগ্রাধিকার।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments