Wednesday, April 29, 2026
Homeআন্তর্জাতিকএবার মার্কিন নৌবাহিনীর সেক্রেটারি জন ফেলান বরখাস্ত

এবার মার্কিন নৌবাহিনীর সেক্রেটারি জন ফেলান বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সেক্রেটারি জন ফেলানকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র।

রয়টার্স বলছে, আজ বুধবার এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

পেন্টাগন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, জন ফেলান ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ দায়িত্ব ছাড়ছেন। তবে বরখাস্তের কারণ বা এটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজ নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ফেলানকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্কও ভালো ছিল না।

বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, তার ডেপুটি স্টিভ ফেইনবার্গ এবং নৌবাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হাং কাওয়ের সঙ্গে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, হাং কাওই এখন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করবেন।

ফেলানের দপ্তরকে ঘিরে একটি নৈতিকতা সংক্রান্ত তদন্ত চলছিল বলেও অপর একটি সূত্র জানায়।

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তার মনোনীত কোনো সার্ভিস সেক্রেটারিকে বরখাস্তের ঘটনা এটাই প্রথম। বিলিয়নিয়ার ফেলান ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ফেলানের অপসারণ পেন্টাগনে চলমান নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস কুইন্টন ব্রাউন, নৌবাহিনীর অপারেশন প্রধান এবং বিমান বাহিনীর ভাইস চিফসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরানো হয়।

গত ২ এপ্রিল কোনো কারণ না জানিয়েই সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকেও বরখাস্ত করেন হেগসেথ।

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যাক রিড ফেলানকে বরখাস্ত করাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার আরেকটি উদাহরণ।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই পরিবর্তন এলো। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ইরানের ওপর চাপ তৈরিতে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করছে।

একই সময়ে নৌবাহিনীকে দ্রুত শক্তিশালী করার চাপও বাড়ছে। চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৭ অর্থবছরের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবে ১৮টি যুদ্ধজাহাজ ও ১৬টি সহায়ক জাহাজ নির্মাণে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি পেন্টাগনের তথাকথিত ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ উদ্যোগের অংশ, যা ১৯৬২ সালের পর সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাণ পরিকল্পনা বলে দাবি করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments