Wednesday, April 29, 2026
Homeখেলাওয়ানডে সিরিজের সেরা একাদশ: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ

ওয়ানডে সিরিজের সেরা একাদশ: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ

তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশে এলেও সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের সঙ্গে লড়াই করেছে নিউজিল্যান্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানের জয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের সেরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একটি ‘যৌথ একাদশ’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ৬ জন ও নিউজিল্যান্ডের ৫ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন।

এই একাদশে রয়েছেন ৫ জন ব্যাটার, ৪ জন পেসার এবং ১ জন করে অলরাউন্ডার ও স্পিনার।

১. হেনরি নিকোলস
নিউজিল্যান্ডের এই তরুণ দলে দ্বিতীয় সেরা অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে নিকোলস টপ অর্ডারে নির্ভরতা যুগিয়েছেন। খুব বড় স্কোর না পেলেও প্রতিকূল কন্ডিশনে দলের ব্যাটিংয়ের সুর বেঁধে দিতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২. নিক কেলি
১৪৯ রান করে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন কেলি। চাপ সামলে ব্যাটিং করার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। দুটি হাফ সেঞ্চুরি ও অবিচল খেলার মাধ্যমে তিনি ছিলেন কিউই ব্যাটিং লাইনের মেরুদণ্ড।

৩. নাজমুল হোসেন শান্ত
১৫৫ রান নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ছিলেন শান্ত। সিরিজের শেষ ও নির্ধারক ম্যাচে তার করা সেঞ্চুরিটিই ছিল এই সিরিজের একমাত্র শতক। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর চার নম্বরে নেমে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দায়িত্বশীল হাফসেঞ্চুরিটি দল ও তার নিজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

৪. লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক)
সিরিজে ১২৯ রান করা লিটন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছন্দ ফেরানোর কাজ করেছেন। বিশেষ করে, শেষ ওয়ানডেতে তার স্ট্রোক-প্লে মিডল ওভারে রানের চাকা সচল রাখে। ১৯ ইনিংস পর এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হাফসেঞ্চুরির দেখা পান।

৫. তাওহিদ হৃদয়
পুরো সিরিজে মাত্র একবার আউট হওয়া হৃদয়ের সংগ্রহ ছিল ১১৮ রান, যেখানে তার গড়ও ১১৮। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও তিনি ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯৯ রান তাড়ায় দলকে পথ দেখানো কিংবা শেষ ম্যাচে দ্রুত ৩৩ রানের ইনিংস— স্ট্রাইক রোটেট করা ও রানের গতি বাড়ানোর দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।

৬. ডিন ফক্সক্রফট
নির্ধারক ম্যাচে ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংসটি তার ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। সিরিজে তার ১২৯ রান এসেছে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে। পুরো সিরিজে সর্বোচ্চ ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। বল হাতেও তিনি বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিলেন, ১৭.৩ ওভারে ৮৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট (ইকোনমি ৪.৯১)।

৭. শরিফুল ইসলাম
তিনের নিচে (২.৮৮) ইকোনমি রেট ও ৫ উইকেট— শরিফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রমাণ দেয়। তিনি ধারাবাহিকভাবে চাপ বজায় রেখেছেন, যা অন্য বোলারদের উইকেট পেতে সাহায্য করেছে।

৮. নাহিদ রানা
একটি ম্যাচে ৫ উইকেটসহ মোট ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন গতিময় পেসার নাহিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

৯. মোস্তাফিজুর রহমান
ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই মোস্তাফিজ দেখিয়েছেন নিজের কারিশমা। শেষ ম্যাচে তার আলো ছড়িয়ে ৫ উইকেট প্রাপ্তিই মূলত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে দেয়।

১০. জেইডেন লেনক্স
বাংলাদেশের বোলারদের সাথে পাল্লা দিয়ে সিরিজে ৫ উইকেট নিয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঝের ওভারগুলোতে দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এই স্পিনার।

১১. উইল ও’রোর্ক
তরুণ এই পেসার ৫টি উইকেট শিকার করেছেন। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন, যা অপরিচিত কন্ডিশনেও কিউইদের জন্য ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments