Friday, May 1, 2026
Homeসারাদেশচ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের উপায় জানতে চেয়েছিলেন হিশাম আবুগারবিয়েহ

চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের উপায় জানতে চেয়েছিলেন হিশাম আবুগারবিয়েহ

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ঘাতক হিশাম আবুগারবিয়েহ হত্যাকাণ্ডের আগে চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে মৃতদেহ ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে গুম করা যায়। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টি। অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহ জামিলের সাবেক রুমমেট ছিলেন। তাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

শনিবার আদালতে জমা দেওয়া প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, জামিল ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে গত ১৩ এপ্রিল আবুগারবিয়েহ এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, ‘একজন মানুষকে কালো ট্র্যাশব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়?’

উত্তরে চ্যাটজিপিটি জানায়, বিষয়টি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। তখন আবুগারবিয়েহ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তারা (পুলিশ) বিষয়টি কীভাবে জানতে পারবে?’

তদন্তকারীরা জানান, গত ১৭ এপ্রিল আবুগারবিয়েহকে তার অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে কিছু বাক্স ফেলতে দেখে তার এক রুমমেট। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে লিমনের আইডি কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাস্টবিনে পাওয়া একটি টি-শার্টে লিমনের ও একটি কিচেন ম্যাটে বৃষ্টির ডিএনএ পাওয়া গেছে।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ একটি ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়, যা থেকে পচনের দুর্গন্ধ আসছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই নথিতে জানানো হয়, তাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। 

গত রোববার তল্লাশি চালিয়ে কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ, তবে তা বৃষ্টির কিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, বৃষ্টিকেও হত্যা করে আবুগারবিয়েহ তার মরদেহ গুম করেছেন।

প্রসিকিউটররা জানান, ওই রাতে আবুঘারবিয়া ডাস্টবিন ব্যাগ ও পরিষ্কার করার সামগ্রী (লাইসোল ওয়াইপস, ফেব্রিজ) কিনেছিলেন। তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে এবং তিনি বৃষ্টির গোলাপী রঙের ফোন কভারটিও ফেলে দিয়েছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে তিনি সব অস্বীকার করলেও ফোনের লোকেশন ডেটার প্রমাণ দেখানোর পর তিনি কথা বদলান।

আবুগারবিয়েহ দাবি করেন, তিনি ওই দুজনকে ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় নামিয়ে দিয়েছিলেন। তবে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর পাশ থেকে, যেখানে আবুগারবিয়েহর গাড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।

শুক্রবার পুলিশ আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ছাড়াও মৃতদেহ লুকিয়ে রাখা ও আলামত নষ্ট করার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিনা জামিনে কারাগারে আছেন।

নিহত জামিল ও বৃষ্টির পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যেন ইসলামি রীতি অনুযায়ী সন্তানদের মরদেহ দাফন করতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments