Friday, July 24, 2026
Homeঅপরাধপন্টুন বিচ্ছিন্ন: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নৌপথের যাত্রীদের ভোগান্তি

পন্টুন বিচ্ছিন্ন: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নৌপথের যাত্রীদের ভোগান্তি

আগুনমুখা নদীর তীব্র স্রোতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটের জেটি ভেঙে পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই নৌরুটের অসংখ্য যাত্রী। 

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পন্টুনটি ঘাট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় যাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প উপায়ে নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন রাতে কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটের জেটি ভেঙে পন্টুনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে যায়। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুনটি উদ্ধার করে ঘাটসংলগ্ন একটি স্থানে বেঁধে রাখলেও সেখানে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটের ইজারার অংশীদার মো. বশির প্যাদা জানান, জেটিটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। নদীর তলদেশে মাটি সরে যাওয়ায় পন্টুন স্থির রাখার চারটি স্পাড (খুঁটি) ও জেটির মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে প্রবল জোয়ারের চাপে জেটিটি তলিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, এই ঘাটের ওপর প্রতিদিন দুটি ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ, গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটের যাত্রীবাহী নৌযান, মালবাহী কার্গো ট্রলারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নৌযান নির্ভরশীল। পন্টুন না থাকায় যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটের ট্রলার মালিক রকিবুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক মাস ধরে পন্টুন বিচ্ছিন্ন থাকায় যাত্রীদের ট্রলার থেকে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

বাহেরচর বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান আজাদ জানান, ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে প্রতি সপ্তাহে তার ব্যবসার মালামাল এই ঘাটে আসে। কিন্তু পন্টুন না থাকায় পণ্য খালাস ও পরিবহনে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়াচ্ছে।

লঞ্চঘাটে দ্রুত পন্টুন পুনঃস্থাপন করে চলাচল স্বাভাবিক করতে বিআইডব্লিউটিএকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার। 

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামতে কিছু কারিগরি জটিলতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।

পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপপরিচালক মো. জাকি শাহারিয়ার বলেন, নদীর তলদেশে মাটি সরে যাওয়ায় জেটির খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রবল স্রোতে পন্টুনের স্পাডগুলো হেলে পড়েছে। পন্টুনটি উদ্ধার করে কাছাকাছি রাখা হলেও এলাকাটি ভাঙনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধাজনক স্থানে এটি পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, নতুন অর্থবছর সবেমাত্র শুরু হয়েছে। মেরামতের প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে জেটি মেরামত এবং পন্টুন পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হবে।

 

 

 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments