Thursday, July 23, 2026
Homeঅপরাধরাঙামাটিতে পৃথক স্থানে পাহাড়ধস, ফিরতে পারেননি সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা

রাঙামাটিতে পৃথক স্থানে পাহাড়ধস, ফিরতে পারেননি সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির পৃথক দুই স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। অন্যদিকে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা দুদিনেও ফিরতে পারেননি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাপছড়ি এলাকায় ও রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া অংশে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ১০টার দিকে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাপছড়ি এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড়ের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

 

অন্যদিকে, সকাল ৬টার দিকে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া অংশের মতিপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকেল ৩টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে বড় আকারের দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও পরে সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে তা স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে উভয় সড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক।

এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ‘২ কিলো’ এলাকায় সড়ক দেবে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

 

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা ডেইলি স্টারকে বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারছি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি।

এদিকে, সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় গতকাল বুধবার থেকে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকেরা দুদিনেও ফিরতে পারেননি। আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য কক্ষ ভাড়া বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় খাবারে ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মণ ডেইলি স্টারকে বলেন, গতকাল থেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা এখনো সাজেক থেকে যেতে পারেননি। তাদের জন্য রুম ভাড়া ফ্রি ও রেস্টুরেন্টে ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর শেখ সালমান ডেইলি স্টারকে বলেন, সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ১৫০ জন আজ সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন। বাকিদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ৭ জুলাই রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে নদী পারাপারের সময় দলমনি চাকমা নামে এক ব্যক্তি পানিতে ভেসে নিখোঁজ হন। আজ তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টিতে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments