Sunday, May 3, 2026
Homeসারাদেশঅন্যের ফুয়েল কার্ড নিয়ে পেট্রোল পাম্পে আসা তরুণকে ইউএনওর মারধর

অন্যের ফুয়েল কার্ড নিয়ে পেট্রোল পাম্পে আসা তরুণকে ইউএনওর মারধর

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অন্যের ফুয়েল কার্ড ও মোটরসাইকেল নিয়ে  পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা এক তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারে লুবানা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত মোটরসাইকেল চালকরা জানান, চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলক চন্দ্র রায় শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় নিজে পাম্পে গিয়ে তেল নিতে পারেননি।

এ কারণে তিনি তার মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ড স্থানীয় গ্যারেজ মালিক প্রদীপ চন্দ্র রায়ের কাছে দেন। পরে প্রদীপ চন্দ্র রায় তার কর্মচারী নদী চন্দ্র রায়কে ফুয়েল কার্ডটি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ তেল আনতে পাঠান।

তারা জানান, নদী চন্দ্র রায় ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সেখানে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান তার হাতে থাকা ফুয়েল কার্ড পরীক্ষা করেন। কার্ডে থাকা ছবির সঙ্গে নদী চন্দ্র রায়ের চেহারার মিল না থাকায় কোনো ধরনের ব্যাখ্যা শোনার আগেই ইউএনও তাকে মারধর করেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পরে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা হয়। মোটরসাইল ও ফুয়েল কার্ডটি কলেজ শিক্ষক গোলক চন্দ্র রায়ের, সেটি নিশ্চিত হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর নদী চন্দ্র রায়কে মোটরসাইকেলসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

নদী চন্দ্র রায় বলেন, আমি গ্যারেজে কাজ করি। মালিকের কথায় একজন অসুস্থ শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে গিয়েছিলাম। ইউএনও কোনো কথা না শুনেই আমাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। আমি কোনো অপরাধ করিনি। বিনা কারণে আমাকে মারধর করা হয়েছে, চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

সহকারী অধ্যাপক গোলক চন্দ্র রায় বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় নিজে পাম্পে যেতে পারিনি। তাই গ্যারেজ মালিকের সহায়তা নিয়েছিলাম। আমার মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে গিয়ে একজন নির্দোষ মানুষকে এভাবে মারধর ও অপমান করা হবে, তা কল্পনাও করিনি। বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান বলেন, আমি শুধু তার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। পরে তার অভিভাবকের কাছে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নদী চন্দ্র রায়কে শারীরিকভাবে আঘাত করতে দেখা যাচ্ছে— এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও আর কোনো মন্তব্য করেননি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments