Sunday, May 3, 2026
Homeসারাদেশআলীকদমে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৮ শিশু

আলীকদমে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৮ শিশু

বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একদিনে হাম ও এর উপসর্গ ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আজ শুক্রবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ম্রো সম্প্রদায়ের ১০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে, দুর্গম পোয়ামুহুরি দড়িপাড়া সংলগ্ন বিদ্যামনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী মেডিকেল সেবা কেন্দ্রে আজ সকালে ১৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে।

হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই ম্রো সম্প্রদায়ের যুবসমাজ এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে এই মেডিকেল সেবা কেন্দ্রে কাজ করছে।

স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেনথাও ম্রো ডেইলি স্টারকে বলেন, দুর্গম পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর আমরা সচেতন যুবসমাজকে নিয়ে একটি ভলান্টিয়ার টিম গঠন করি। এই টিম হাম, ডায়রিয়া, গুটিবসন্তসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের সেবায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা থেকে রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া মুমূর্ষু রোগীর খবর পেলেই দ্রুত হাসপাতালে আনার ব্যবস্থাও করছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলায় হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ জনে। এর মধ্যে ৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫০ জন। গুরুতর অবস্থায় ৪ জনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২৬ জন।

বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ রোগী চিকিৎসাধীন। নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক হামের রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় কুরুকপাতা ইউনিয়নের মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ চিকিৎসক, ৩ নার্স, একজন সহকারী সিভিল সার্জন এবং একজন এলএমএসএসসহ মোট ৮ জনের একটি মেডিকেল টিম অস্থায়ী ক্যাম্পে কাজ করছে।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দুর্গম এলাকার বাড়িতে ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের হামের টিকাদান কার্যক্রম চলছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments