Wednesday, May 6, 2026
Homeবিনোদন‘এফডিসিতে চুপিচুপি কেঁদেছিলাম’

‘এফডিসিতে চুপিচুপি কেঁদেছিলাম’

ষাটের দশকের রোমান্টিক নায়িকা শবনম। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এহতেশামের উর্দু সিনেমা ‘চান্দা’র মাধ্যমে। বাংলা চলচ্চিত্রে তার আবির্ভাব ঘটে ‘হারানো দিন’ সিনেমায়। প্রথম সিনেমাতেই করেন বাজিমাত।

‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয় করে পান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। এই সিনেমার ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’ গানের মাধ্যমে কোটি সিনেমাপ্রেমীর মনে জায়গা করে নেন তিনি।

নায়ক রহমান ও শবনম ছিলেন ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত জুটিগুলোর একটি। এর বাইরে রাজ্জাকসহ তৎকালীন অনেক নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও অত্যন্ত সফল ছিলেন শবনম। সেখানে অভিনয় করে ১৩ বার পেয়েছেন ‘নিগার পুরস্কার’।

তবে ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করার পর তাকে আর রুপালি পর্দায় দেখা যায়নি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে শবনম বলেন, ‘নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম সিনেমা হারানো দিন ভীষণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। আবার আমার শেষ সিনেমা আম্মাজানও সুপারডুপার হিট। তাই বলতেই পারি, সিনেমায় আমার প্রথম এবং শেষ—দুটোই কালজয়ী হয়ে আছে।’

অভিনয় ছাড়ার পেছনে কোনো অভিমান ছিল কি না—জানতে চাইলে শবনম বলেন, ‘না, কোনো অভিমান নয়। আসলে সেভাবে আর গল্প পছন্দ হয়নি বলেই কাজ করিনি। মনের মতো গল্প পেলে নিশ্চয়ই করতাম।’

বহু বছর পর সম্প্রতি এফডিসিতে গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। স্মৃতি হাতড়ে শবনম বলেন, ‘অল্প সময়ের জন্য এফডিসিতে গিয়েছিলাম। ঠিক কত বছর পর গিয়েছি, হিসাব করে বলতে পারব না। সেখানে যাওয়ার পর কত স্মৃতি, কত কথা যে মনে পড়ে গেল! ভেতরে গিয়ে অনেক পরিবর্তনও দেখলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন হয়তো শুক্রবার ছিল, তাই মানুষজন কম ছিল। মানুষ কম থাকায় আমার জন্য সুবিধা হয়েছিল। তবে এফডিসিতে গিয়ে আমি চুপিচুপি কেঁদেছিলাম। কেমন যেন একটা শূন্যতা আর কষ্ট লাগছিল, চোখ ভিজে এসেছিল।’

পর্দায় না থাকলেও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এখনো তাকে ঘিরে রেখেছে। শবনম বলেন, ‘আমি এখনো নিয়মিত বাজারে যাই। গুলশানের ওদিকের একটি বাজারে নিয়ম করেই যাওয়া হয়। আজ সকালেও বাজারে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর দোকানদারেরা বলছিলেন, সরে দাঁড়ান! ওই যে আম্মাজান এসেছেন!’

তিনি বলেন, ‘মানুষ যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, সম্মান করে, “আম্মাজান” বলে ডাকে—এটি আমার অনেক বড় পাওয়া। এই ভালোবাসা ও সম্মান নিয়েই বাঁচতে চাই।’

এখন কীভাবে সময় কাটে? শবনম হাসিমুখে বলেন, ‘বই পড়ে, টেলিভিশন দেখে আর ছেলের সঙ্গে গল্প করে সময় কেটে যায়। ছেলের জন্য এটা-ওটা রান্না করতে আমার খুব ভালো লাগে। সব সময় একটি কথাই বলি, মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments