Friday, May 1, 2026
Homeসারাদেশকুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল: তদন্ত প্রতিবেদন

কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল: তদন্ত প্রতিবেদন

বাগেরহাটের খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এছাড়া, কুকুরটি যাদের কামড়েছে তারা জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং কুকুরটিকে ইচ্ছকৃতভাবে কুমিরের কাছে ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

আজ বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে কামড়ে নিয়ে যায় দিঘির কুমির ধলাপাহাড়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

প্রাণী অধিকার কর্মীসহ অনেকের অভিযোগ ছিল, কুকুরটিকে মাজারের দিঘির কুমিরের খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার কর্তৃপক্ষের দাবি, কুকুরটিকে পানিতে কুমিরের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং পানিতে নামার আগে বেশ কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল।

ঘটনার পেছনের প্রকৃত তথ্য জানতে গত ১১ এপ্রিল বাগেরহাট জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ইউএনও আতিয়া খাতুনের নেতৃত্বে কমিটিতে ছিলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

একইদিন বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় কুকুরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কুকুরটি অসুস্থ ছিল কি না, তা জানতে সেটির মাথার অংশ ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল বুধবার জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সিডিআইএল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। কুকুরটি যাদের কামড়েছে তারাও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। তবে কুকুর দ্বারা আক্রান্ত যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন।’

কুকুরকে আক্রমণ করা কুমিরের জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কি না, জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কুমিরের জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।’

ইউএনও আতিয়া খাতুন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং অধিকতর তদন্ত শেষে আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। তদন্তে কুকুরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে তুলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল এবং দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুকুরটি একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী টিকা নিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে আমরা সে প্রমাণও সংগ্রহ করেছি।’

যোগাযোগ করা হলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments