Sunday, May 3, 2026
Homeখেলা‘ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে ফিফার তামাশা’

‘ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে ফিফার তামাশা’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার তীব্র সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভাইন। তার মতে, এর মাধ্যমে ফিফা নিজের তৈরি ‘মানবাধিকার নীতিমালা’ নিয়ে তামাশা করেছে এবং ফুটবলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরভাইন সরাসরি ফিফাকে লক্ষ্য করে কথা বলেন। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ‘বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রচারের’ অবদানের জন্য ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া হয়।

কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ড্র অনুষ্ঠানের মাত্র এক মাস পরেই ভেনিজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এমনকি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানেও বিমান হামলা শুরু করেছে তারা।

রয়টার্সকে আরভাইন বলেন, ‘একটি সংস্থা হিসেবে ফিফা যখন ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বলতেই হয় তারা নিজেদের মানবাধিকার সনদ নিয়ে তামাশা করছে। ফুটবলের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে লক্ষ্য, এটি তার পুরোপুরি বিরোধী।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলকে সমাজ ও সাধারণ মানুষের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। বিশেষ করে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল এখন তৃণমূলের বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।’

এই বিষয়ে ফিফা বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পুরস্কারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সোমবার নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও ফিফাকে এই পুরস্কার বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়ানো ঠিক হবে না।

প্রতিবাদের মুখে ফিফা

২০১৭ সালে ফিফা প্রথম মানবাধিকার নীতিমালা প্রকাশ করে। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে তারা জানিয়েছিল, টুর্নামেন্ট চলাকালীন আয়োজক শহরগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা ও বৈষম্য দূর করা হবে।

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও নির্বাসন প্রক্রিয়ার কারণে খেলোয়াড়, ভক্ত ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ বিষয়ে ফিফার আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮০টি ম্যাচ খেলা ৩৩ বছর বয়সী আরভাইন খেলেন জার্মান ক্লাব সেন্ট পাউলিতে। ক্লাবটি তাদের প্রগতিশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগেও অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন আরভাইন। ১৬ জন সতীর্থকে নিয়ে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কাতার সরকারের নানা নীতি ও শ্রমিকদের মানবেতর জীবন নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।

চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও একই রকম শঙ্কিত আরভাইন। তিনি বলেন, ‘অধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আমেরিকাতেও আমরা দেখছি নানা সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। আমরা আশা করব, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যেন সবার অধিকার রক্ষা পায় এবং খেলোয়াড়রা যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারেন।’

সাধারণত বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো স্লোগান ব্যবহারের অনুমতি দেয় না ফিফা। তবে ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক সচেতনামূলক আটটি আর্মব্যান্ড পরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলোয়াড়রা এমন কোনো সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে ফিফা এখনো মুখ খোলেনি। আরভাইন মনে করেন, ফুটবলারদের সমাজ সচেতনামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত, যদিও বিষয়টি এখন বেশ সংবেদনশীল ও বিতর্কিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments