Sunday, May 3, 2026
Homeআন্তর্জাতিকপ্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে হরমুজ প্রণালি: ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নৌ অবরোধগুলোতে কী হয়েছিল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে হরমুজ প্রণালি: ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নৌ অবরোধগুলোতে কী হয়েছিল?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এই সরু পথ দিয়েই একসময় বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হতো। ফলে এই অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে।

নৌ অবরোধ ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও কার্যকর যুদ্ধকৌশল। স্থলবাহিনী মোতায়েন বা সরাসরি আক্রমণ ছাড়াই এই পদ্ধতিতে শত্রুপক্ষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। তাই যুগে যুগে এটি কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, এই অবরোধগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছে। যেমন, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। মাসব্যাপী যুদ্ধ চলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল হরমুজে পাল্টা নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটিয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের গাজায় ইসরায়েলের চলমান অবরোধ বিশ্বরাজনীতিকে ব্যাপক পরিবর্তন করে দিয়েছে। সেসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

১৯১৪ সালের আগস্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ব্রিটিশ নৌবাহিনী জার্মানির বিরুদ্ধে অবরোধ শুরু করে।

এই নৌ অবরোধ ইংলিশ চ্যানেল থেকে নরওয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যা জার্মানিকে সমুদ্রপথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

ব্রিটেন আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাইন পেতে জাহাজের চলাচল ঠেকায়। ফলে নিরপেক্ষ জাহাজগুলোর জন্যও বিপদ সৃষ্টি হয়।

এর জবাবে জার্মানি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের সমুদ্রকে ‘সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করে। ফলে জার্মানির সঙ্গে সব ধরনের পণ্য আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

এই অবরোধেরও সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ছিল দুর্ভিক্ষ। এতে খাদ্য ও সার আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, আলুর ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থার ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। ধারণা করা হয়, অনাহার ও অপুষ্টিজনিত রোগে ৪ লাখ ২৪ হাজার থেকে ৭ লাখ ৬৩ হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়।

ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরের পরও ১৯১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত এই অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।

১৯১৫ সালের আগস্টে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে অবরোধ আরোপ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সামরিক সরবরাহ বন্ধ করা এবং অটোমান সাম্রাজ্যের যুদ্ধক্ষমতা দুর্বল করা।

ঘোষিত অবরোধ এলাকা উত্তরদিকে এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থল থেকে দক্ষিণে মিশরের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই অবরোধ শুরু করে। পরে ইতালি ও অন্যান্য মিত্র শক্তি এতে যোগ দেয়।

এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ। সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ, তেল, খাদ্য ও ওষুধ—সবই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ১৯১৫ সালে পঙ্গপালের আক্রমণ ও তীব্র খরার কারণে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হয়, যা লেবানন ও বৃহত্তর সিরিয়াজুড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্ভিক্ষে ১৯১৮ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটে। মাউন্ট লেবাননের প্রায় তিন ভাগের একভাগ মানুষ মারা যান। এরপর ব্যাপক অভিবাসন শুরু হয়।

এই অবরোধ পুরো যুদ্ধকালজুড়ে বজায় ছিল এবং ১৯১৮ সালের অক্টোবরে মিত্রবাহিনী বৈরুত ও মাউন্ট লেবানন দখল করার পর তা প্রত্যাহার করা হয়।

১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোরিয়া যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের নৌবাহিনী উত্তর কোরিয়ার উনসান বন্দরে অবরোধ আরোপ করে। এটি প্রায় আড়াই বছর স্থায়ী হয়।

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে এই শহরে প্রবেশে বাধা দেওয়াই এই অবরোধের উদ্দেশ্য ছিল। এটি ছিল একটি বড় বন্দর, যা বিমানঘাঁটি ও তেল শোধনাগারের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এর আগে ১৯৫০ সালের অক্টোবরে বিপজ্জনক মাইন অপসারণ অভিযান চালানো হয়। উত্তর কোরিয়ার বাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক সমুদ্র মাইন পেয়েছিল। সেই মাইন অপসারণের সময় ইউএসএস প্লেজ ও ইউএসএস পাইরেট নামের দুটি জাহাজ ডুবে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং অসংখ্য ক্রু আহত হন।

এই অভিযান পূর্ব উপকূলে উত্তর কোরিয়া ও চীনের বাহিনীকে সফলভাবে আটকে দেয়। এমনকি ফ্রন্টলাইন থেকে তাদেরকে হাজার হাজার সৈন্য ও আর্টিলারি সরিয়ে নিতে বাধ্য করে। জাতিসংঘ বাহিনী কয়েকটি বন্দরসংলগ্ন দ্বীপও দখল করে নেয়, যা অবরোধকে আরও শক্তিশালী করে।

১৯৫৩ সালের জুলাইয়ে ৮৬১ দিন পর কোরিয়ান অস্ত্রবিরতি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে এই অবরোধ শেষ হয়। ততদিনে নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণে উনসান বন্দর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে সাবমেরিন অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৪২ সালে শুরু হওয়া এই অবরোধে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং মাইন পাতার মতো জাপানি কৌশলকে দুর্বল করে ফেলা হয়। একইসঙ্গে খাদ্য ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টাও করা হয়।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিনগুলো প্রায় ১ হাজার ৩০০টি জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ২০০টি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। ১৯৪৫ সালের মধ্যে জাপানে তেল ও খাদ্য আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ১৯৪৫ সালের মধ্যে জাপানজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট ও অপুষ্টি দেখা দেয়।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করার পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জাপান সরকার আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমে এই অবরোধ এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে।

১৯৬২ সালের অক্টোবরে কিউবাতে একটি নির্মাণাধীন সোভিয়েত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি দেখতে পায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান। এরপর কিউবার বিরুদ্ধে নৌ ‘কোয়ারান্টিন’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।

আইনি দৃষ্টিতে অবরোধ যুদ্ধ ঘোষণার সমান হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে অবরোধ না বলে ‘কোয়ারান্টিন’ বলেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কিউবাতে আনা সামরিক সহায়তা ঠেকানো। সেইসঙ্গে স্থাপন করা ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে চাপও সৃষ্টি করা হয়।

এই কোয়ারান্টিন কিউবার উপকূল থেকে ৫০০ নটিক্যাল মাইল (৯২০ কিমি) দূরে একটি সীমারেখা নির্ধারণ করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলোকে উত্তর আমেরিকার দিকে এগিয়ে আসা জাহাজ থামানো, তল্লাশি করা এবং ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই সংকট বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তেও নিয়ে যায়। তৎকালীন সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ এই অবরোধকে জলদস্যুতা ও আগ্রাসন বলে আখ্যা দেন। তারপর রুশ জাহাজগুলোকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন। কয়েকদিন ধরে সোভিয়েত জাহাজগুলো কোয়ারান্টিন সীমার দিকে এগোতে থাকে।

এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়কাল ছিল ১৩ দিন। শেষে একটি সমঝোতা হয়, যেখানে সোভিয়েতরা কিউবায় তাদের আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরিয়ে নিতে রাজি হয়। এর বিনিময়ে কিউবাতে আক্রমণ না করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে গোপনে তুরস্ক থেকে তাদের জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

সব আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার পর ১৯৬২ সালের ২০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌ কোয়ারান্টিন শেষ হয়।

বেইরা প্যাট্রোল ছিল ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পরিচালিত নয় বছরব্যাপী একটি অবরোধ। এটির উদ্দেশ্য ছিল মোজাম্বিকের বেইরা বন্দর হয়ে তৎকালীন রোডেশিয়াতে (বর্তমান জিম্বাবুয়ে) তেল পৌঁছানো ঠেকানো। রোডেশিয়ার একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এটি কার্যকর করা হয়।

তবে এই অবরোধ তার কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও মোজাম্বিকের অন্যান্য বন্দর দিয়ে তেল পেতে থাকে রোডেশিয়া। আর জাতিসংঘের প্রস্তাবে এগুলো আটকানোর অনুমতি ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে দেওয়া হয়নি।

পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যের জন্য এই অভিযানের খরচও ছিল বিশাল। নয় বছরের এই অভিযানে তাদের ৭৮টি নৌযান মোতায়েন ছিল।

পর্তুগাল থেকে সদ্য স্বাধীন হওয়া মোজাম্বিক রোডেশিয়ায় তেল পরিবহন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখলে ১৯৭৫ সালের জুলাইয়ে এই অবরোধ শেষ হয়।

১৯৬৭ সালের জুলাইয়ে নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিয়াফ্রা প্রজাতন্ত্রের ওপর নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে।

এই অবরোধ ব্যাপক দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে। অনেকের মতেই এটি একটি সচেতন যুদ্ধকৌশল ছিল। একটি আঞ্চলিক সংঘাতকে বৈশ্বিক মানবিক সংকটে রূপ দেয় এই অবরোধ। মৃত্যুর সংখ্যা সঠিক জানা না গেলেও ১০ থেকে ২০ লাখ মানুষ সেসময় মারা যায় বলে ধারণা করা হয় ।

প্রায় তিন বছরব্যাপী এই অবরোধ ১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে বিয়াফ্রার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।

২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। এটি আধুনিক বিশ্বের দীর্ঘতম অবরোধগুলোর একটি।

এই অবরোধের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে পণ্য ও জরুরি সেবা সরবরাহের পথ সীমিত করেছে ইসরায়েল। ফলে ২৩ লাখ মানুষের এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি সেখানে মানুষ অবাধে চলাচল করতেও পারে না।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এরপর ফিলিস্তিনি জেলেদের কার্যক্রম উপকূল হতে ৬ থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল (১১ থেকে ২৮ কিমি) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছিল তারা। অসলো চুক্তিতে নির্ধারিত ২০ নটিক্যাল মাইল (৩৭ কিমি) এলাকার তুলনায় এটি অনেক কম।

এই ঘটনার পর থেকে নিজেদের পরিবার চালাতে জেলেরা এই সীমারেখা ভাঙতে শুরু করেন। ফলে অনেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।

২০০৮ সাল থেকে একাধিক ফ্রিডম ফ্লোটিলা জাহাজ ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছে। ২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজা অবরোধ ভাঙার সব প্রচেষ্টাকেই ইসরায়েল হামলা করে থামিয়ে দিয়েছে।

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল গাজা থেকে ১ হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) দূরে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানের ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ২২টিতেই অভিযান চালায় ইসরায়েল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments