Sunday, May 3, 2026
Homeখেলাবল হাতে উজ্জ্বল নাহিদ, ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার

বল হাতে উজ্জ্বল নাহিদ, ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার

শুরুটা খরুচে হলেও গতি, বাউন্স ও নিখুঁত ইয়র্কারের মিশেলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশের তরুণ এই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে অ্যারন হার্ডির তোপে ফাইনালে লড়াই করার মতো পুঁজি পেল না হায়দরাবাদ কিংসমেন। এরপর ছোট লক্ষ্য তাড়ায় প্রথমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও হার্ডি ও আব্দুল সামাদের ঝড়ো জুটির কল্যাণে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) শিরোপার উল্লাসে মাতল পেশোয়ার জালমি।

রোববার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৫ উইকেটে জিতেছে পেশোয়ার। পিএসএলে এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। নয় বছর আগে ২০১৭ সালের আসরে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল তারা।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়। জবাব দিতে নেমে ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে ১৩০ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পেশোয়ার।

নাহিদ ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ ২২ রানে নেন ২ উইকেট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হওয়া হার্ডি ৪ ওভারে ২৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর খেলেন ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তিনি ৩৯ বল মোকাবিলায় মারেন নয়টি চার। পঞ্চম ওভারে কেবল ৪০ রানে পেশোয়ারের ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সামাদের সঙ্গে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ জুটি বাঁধেন তিনি। তারা ৬০ বলে যোগ করেন ৮৫ রান। সামাদ ৩৪ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ৪৮ রান।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করা নাহিদকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত একটি বড় বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার ফাইনালের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে পিএসএলে ফের খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। আস্থার প্রতিদান দিয়ে বড় ম্যাচের চাপ সামলে ঠিকই জ্বলে ওঠেন এই তরুণ।

হায়দরাবাদের বিপক্ষে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবার বল হাতে পেয়ে সাইম আইয়ুবের কাছে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৩ রান হজম করেন নাহিদ। তবে ঘুরে দাঁড়াতে একদমই সময় নেননি। অষ্টম ওভারে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে গতিময় বাউন্সারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ দেন তিনি।

এরপর ১৪তম ওভারে আক্রমণে ফিরে ১৪৮ কিলোমিটার গতির এক দারুণ ডেলিভারিতে হুনাইন শাহকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। ওই ওভারে আসে কেবল একটি লেগ বাই। নিজের শেষ ও ইনিংসের ১৭তম ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ধারা জারি রেখে নাহিদ খরচ করেন মাত্র ৪ রান। সব মিলিয়ে নিজের শেষ তিন ওভারে একটি মেডেনসহ স্রেফ ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন এই গতিময় পেসার।

এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ৭১ রান তুলে ফেললেও হার্ডি ও নাহিদের তোপে হায়দরাবাদ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। স্কোরবোর্ডে ৯০ রান জমা হতে নেই হয়ে যায় ৭ উইকেট। শেষমেশ অল্প পুঁজি নিয়ে পেশোয়ারকে চমকে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। একপ্রান্ত আগলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় সাইম করেন ৫০ বলে ৫৪ রান। তবে যোগ্য সঙ্গ তিনি পাননি ম্যাক্সওয়েল, উসমান খান বা কুসল পেরেরার কাছ থেকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments