শুরুতেই ধাক্কা, এরপর বৃষ্টির দীর্ঘ বিরতি। তাতে ছন্দহীন এক ইনিংসে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের মতো পুঁজি দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা।
শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানে জেইডন লেনক্সের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। দুই বাউন্ডারিতে তার সংগ্রহ ছিল ১৬ রান। এরপর স্কোরবোর্ডে আর ১৪ রান যোগ হতেই নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও, করেন মাত্র ৬ রান।
বড় ধাক্কাটা আসে ঠিক পরের বলেই। স্মিথের ডেলিভারিতে ইশ সোধির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে শূন্য রানেই বিদায় নেন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। এমন পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রেখে সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস, চেষ্টা করছিলেন ইনিংসকে এগিয়ে নিতে।
তবে ঠিক তখনই বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচে। প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে দাঁড়ায় ১৫ ওভারে। নতুন করে শুরু হওয়া খেলায় গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১৩ রান যোগ হতেই থেমে যায় লিটনের ইনিংস। বৃষ্টি নামার আগে ২৫ রানে অপরাজিত থাকা এই ডানহাতি শেষ পর্যন্ত আউট হন ২৬ রানে, যেখানে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা।
এরপর কিছুটা আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয়। ২৪ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্তে কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। একের পর এক ব্যাটার দ্রুত ফিরে গেলে বড় সংগ্রহের আশা ফিকে হয়ে যায় বাংলাদেশের।
শামিম হোসেন ৩ এবং সাইফউদ্দিন শূন্য রানে আউট হলে লেজের ব্যাটারদের ওপরই ভরসা রাখতে হয়। কিন্তু তারাও উল্লেখযোগ্য কিছু যোগ করতে ব্যর্থ হন। ফলে কোনোভাবে একশ পেরোনো একটি সংগ্রহ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় টাইগারদের।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশ ক্লার্কসন। দুই ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান।

