Wednesday, July 22, 2026
Homeমায়ের টোটকায় কার্ডের ‘ফাঁস’ এড়ালেন বেলিংহাম

মায়ের টোটকায় কার্ডের ‘ফাঁস’ এড়ালেন বেলিংহাম

কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে ইংল্যান্ড এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচটিতে ইংলিশ সমর্থকদের হৃদকম্পন বাড়িয়ে দিয়েছিল অন্য এক আশঙ্কা—যদি জুড বেলিংহাম আরেকটি হলুদ কার্ড দেখে বসেন! কারণ, মেক্সিকোর বিপক্ষে আগের ম্যাচেই হলুদ কার্ডের খাতায় নাম তুলেছিলেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। নরওয়ের বিপক্ষে আরেকটি কার্ড দেখার মানেই ছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে ডাগআউটে বসে থাকা।

মায়ামির তীব্র গরমে ম্যাচজুড়ে যখন স্নায়ুর তুমুল পরীক্ষা চলছে, তখন ২৩ বছর বয়সী বেলিংহাম নিজেকে শান্ত রাখলেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায়। জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি এড়ালেন কার্ডের ফাঁদও। আর ম্যাচ শেষে বেলিংহাম নিজেই ফাঁস করলেন মাঠের ভেতরে মাথা ঠান্ডা রাখার সেই রহস্য। সেটি আর কিছুই নয়, ম্যাচজুড়ে তাকে পথ দেখিয়েছে মা ডেনিসের দেওয়া বিশেষ কিছু টোটকা!

সারা সপ্তাহ ধরে মা তাকে কীভাবে সতর্ক করেছিলেন, তা জানিয়ে বেলিংহাম বলেন, ‘মা আমাকে পুরো সপ্তাহ ধরে একটা কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন—মুখের ভাষা সামলাবে, ট্যাকেল করার সময় চোখ-কান খোলা রাখবে এবং নিজের অভিব্যক্তি ও আবেগ কোনোভাবেই প্রকাশ করবে না। সত্যি বলতে, পুরো সপ্তাহ জুড়েই মা আমার মাথায় এই হলুদ কার্ডের ভয়টা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন।’

অবশ্য শুধু মায়ের পরামর্শই নয়, মাঠের রেফারিরও দারুণ প্রশংসা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা, ‘আপনি যখন সঠিক ফুটবলটা খেলবেন, তখন কাজটা সহজ হয়। আর রেফারিকেও কৃতিত্ব দিতে হবে, তিনি দুর্দান্ত ছিলেন। মাঠে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্মানজনক উপায়ে যোগাযোগের সুযোগ দিয়েছেন তিনি, যা অনেক রেফারিই করতে চান না। রেফারি যখন কথা শুনতে রাজি থাকেন এবং নিজের আবেগের ভারসাম্যও ঠিক থাকে, তখন কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।’

এদিকে মায়ামির মাঠে বেলিংহামের এমন দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। অধিনায়ক হ্যারি কেইন যেমন ম্যাচ শেষে বিবিসি-কে স্পষ্টই বললেন, ‘দিনশেষে আমরা জয়ের পথ খুঁজে পেয়েছি। আমরা জানি এটা আমাদের সেরা খেলা ছিল না, কিন্তু আমরা এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আর আজকেও ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে জুড। একদম নিখুঁত সময়ে ওর করা দুটি গোলই আমাদের পার করে দিয়েছে।’

দলের তরুণ সতীর্থ এলিয়ট অ্যান্ডারসন তো বেলিংহামের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছেন, ‘সে কীভাবে যে এটা করে! প্রতিটা মুহূর্তে সে একদম সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় হাজির থাকে। এটা বিশাল এক দক্ষতা। ও সত্যিই অসাধারণ।’

মিডফিল্ডার হয়েও এবার বিশ্বকাপে ৬ গোল করে ফেলেছেন বেলিংহ্যাম। চারবার হয়েছেন ম্যাচ সেরা। দল ফাইনালে উঠলে গোল্ডেন বলের অন্যতম দাবিদার তিনি।

কার্ড না পাওয়ায় চিন্তা মুক্ত ইংল্যান্ডের চার তারকা

আগের রাউন্ডে একটা করে হলুদ কার্ড পাওয়ায় বেলিংহ্যামের মতো ঝুঁকি ছিলেন ডেক্লান রাইস, মার্ক, গুয়েহি এবং নিকো ও’রাইলি। এদের কেউ একজন একটা হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হতেন। শেষ পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি। পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ড কোন কার্ড হজম করেনি। ফলে সেমিফাইনালে এই চারজনকে নিয়ে চিন্তা দূর হয়েছে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের। 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments