গতি, বুদ্ধিমত্তা, অধ্যবসায় আর দক্ষতা — এই সব গুণের সমন্বয়ে বাংলাদেশের পেস ইউনিট সাম্প্রতিক সময়ে দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে। ধারহীন এক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ যখন ঝুলে ছিল, তখন টাইগারদের ফাস্ট বোলাররা নিজেদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন, যার ফলে টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
চট্টগ্রামে গতকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫৫ রানের জয়ে নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর মিরাজ বলেন, ‘আমাদের পেস ইউনিট এখন শুধু নয়, গত তিন-চার বছর ধরেই খুব ভালো বোলিং করছে।’
মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়ে নাহিদ রানা সিরিজে আগুন ধরিয়ে দেন এবং দলের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করেন। অন্যদিকে, এই সিরিজে নিজের প্রথম ম্যাচেই আবারও নিজের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের পরিচয় দেন মোস্তাফিজুর রহমান, তিনিও তুলে নেন পাঁচ উইকেট। ফলে টাইগারদের পেস আক্রমণের ধারাবাহিক উন্নতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘরের মাঠ হোক কিংবা বিদেশে, সাম্প্রতিক পাকিস্তান সিরিজসহ, পেস ইউনিট ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে, যা যে কোনো বাংলাদেশ অধিনায়কের জন্যই এক বড় স্বস্তির বিষয়। এর ফলে দলে বেড়েছে প্রতিযোগিতাও। যেমন, দেড় বছর পর ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ফিরে এসে শরিফুল ইসলাম তিন ম্যাচেই খেলেছেন, আর সেটিও সম্ভব হয়েছে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে মোস্তাফিজুরের সামান্য অস্বস্তির কারণে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আমরা ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে পেস ইউনিটের কারণেই তাদের হারিয়েছিলাম। একটি ভালো পেস ইউনিট দলের গতি বদলে দিতে পারে।’
এই সিরিজে শরিফুল ধারাবাহিকভাবে ভালো লেন্থে বল করেছেন এবং পুরো ইউনিটকে একসঙ্গে কার্যকর হতে সাহায্য করেছেন। ২.৮৭ ইকোনমি রেটে বল করে তিনি পাঁচটি উইকেট নেন। তাকে নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘হঠাৎ করে কোনো ফরম্যাটে খেলা একজন খেলোয়াড়ের জন্য কঠিন… কিন্তু সে যেভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে এবং তিন ম্যাচেই ধারাবাহিক পারফর্ম করেছে… আমার মনে হয়, সবার মধ্যে যদি এমন ক্ষুধা থাকে, তাহলে দলের জন্য দারুণ হবে।’
এদিকে, মোস্তাফিজুর নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার করেন, যা তাকে কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্টের কাতারে নিয়ে গেছে।
এই সিরিজের আসল তারকা ছিলেন রানা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মিরপুরের চাপপূর্ণ পরিবেশে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন, নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার গতির ওপরে বল করে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠেন। পুরো সিরিজে সাত উইকেট নিয়ে তিনি নিজেকে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে প্রমাণ করেন। মিরাজ বলেন, ‘রানা দেশের জন্য একটি সম্পদ, আমাদের সবার উচিত তাকে যত্নে রাখা।’
রানাকে নিয়ে মিরাজের সঙ্গে একমত পোষণ করেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তিনি বলেন, ‘যে কেউ অপেক্ষাকৃত ধীরগতির উইকেটে ১৪৫–১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে, সেটাই তার দক্ষতা এবং এক্স-ফ্যাক্টরকে প্রকাশ করে… সে অবশ্যই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তারকা হওয়ার পথে।’

