ক্রিকেটের প্রতি দেশের মানুষের আবেগ চিরকালই আকাশছোঁয়া। কিন্তু গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের ক্রিকেটে এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছিল। মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব এবং মাঠের বাইরের নানা বিতর্কিত ঘটনার কারণে দর্শকরা অনেকটাই ক্রিকেটবিমুখ হয়ে পড়েছিলেন। গ্যালারিগুলো যেন খাঁ খাঁ করছিল, হারিয়ে গিয়েছিল সেই চিরচেনা গর্জন।
কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির শঙ্কা, এমনকি দীর্ঘ দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পরও দর্শকরা শুধু মাঠেই থাকলেন না, বরং উপচে পড়া ভিড় জমিয়ে প্রমাণ করলেন, ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসা একটুও ম্লান হয়নি।
স্বাগতিকদের ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের জয়, ফলাফলের এই দিকটি হয়তো দর্শকদের হতাশ করেছে। মাঝারি লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করতে নেমে বাংলাদেশের বোলাররা, বিশেষ করে শরিফুল ইসলাম শুরুতেই কিউই শিবিরে কাঁপন ধরালেও, বেভান জ্যাকবের অপরাজিত ফিফটিতে অনায়াস জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। কিন্তু এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সবচেয়ে বড় খবর হয়ে দাঁড়ায় মিরপুরের গ্যালারি। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা এই দর্শকদের আবেগ ও বাঁধভাঙা উল্লাস মুগ্ধ করেছে খোদ প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ককেও।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দর্শকদের এই অভাবনীয় উপস্থিতি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কিউই অধিনায়ক নিক কেলি, ‘এটি ছিল অসাধারণ। খুব আওয়াজ ছিল। তারা খুবই আবেগপ্রবণ। তারা এই দলকে কতটা ভালোবাসে, তা তাদের গর্জন শুনেই বোঝা যায়। আমি ভেবেছিলাম বৃষ্টি হয়তো তাদের কিছুটা ভয় পাইয়ে দেবে। কিন্তু বৃষ্টি থামতেই তারা সবাই আবার ফিরে এসেছেন।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে কেলি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই অসাধারণ। আমরা এখানকার সময়টা খুব উপভোগ করেছি। তারা অনেক বেশি অতিথিপরায়ণ।’
প্রতিপক্ষ হিসেবে ম্যাচ জেতার পরও দর্শকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ জিতে আমরা হয়তো তাদের উৎসবটা কিছুটা নষ্ট করেছি, এজন্য দুঃখিত। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে তারা ক্রিকেটকে ভালোবাসেন। আমি আশা করি তারা বিনোদন পেয়েছেন।’
দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ঘরের মাঠে এমন দর্শক সমর্থন পেয়ে আবেগাপ্লুত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাসও। দেড় বছর পর মিরপুরে দর্শকদের এমন উপস্থিতি দলের জন্য কতটা জরুরি ছিল, তা স্বীকার করে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। সত্যি কথা, খুবই হ্যাপি।’
‘আমার মনে হয়েছে আবার আমাদের দর্শকরা আমাদেরকে সাপোর্ট করতেছে। হোম গ্রাউন্ডে এমন সাপোর্ট পেলে একটা আলাদা বেনিফিট থাকেই। দর্শক হচ্ছে একটা দলের প্রাণ। তারা যদি সাপোর্ট করে, তবে আমাদের জন্য কাজটা অনেক ইজি হয়ে যায়,’ আগামী দিনগুলোতেও দর্শকরা এভাবেই মাঠে ফিরে আসবেন প্রত্যাশা করে বলেন লিটন।

